গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে বিহ্যান্সে পোর্টফোলিও তৈরি করবেন যেভাবে (স্টেপ বাই স্টেপ)

ফ্রিল্যান্সিং করছেন অথচ Behance এর নাম শুনেনি এমন মানুষ বোধহয় একজনও নেই। আসলে এখনকার দিনে Behance সৃজনশীলদের জন্য একটি অন্যতম, শক্তিশালী ও জনপ্রিয় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের কারণে সৃজনশীল ও দক্ষ ফ্রিল্যান্সাররা তাদের করা কাজগুলো সারাবিশ্বের অন্যান্য প্রফেশনালদের কাছে প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে, বিনামূল্যের এই প্রফেশনাল সাইটটিতে আপনি সকল প্রফেশনাল রেফারেল সাইটগুলোতেও প্রদর্শন করতে পারবেন।

Behance এ একটি পোর্টফোলিও তৈরি করার মাধ্যমে আপনি আপনার কাজ প্রদর্শন করার পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রিতে একটি প্রতিষ্ঠিত নাম সংযুক্ত করতে পারবেন। খুব স্বল্প সময়ে কিছু স্টেপ ফলো করেই এই সহজ কাজটি করে ফেলা সক্ষম। আজ আমি কিভাবে Behance এ একটি প্রফেশনাল লেভেলের পোর্টফোলিও তৈরি করা সম্ভব তা নিয়ে আলোচনা করবো।

১। ইমেইল অথবা ফেসবুক দিয়ে লগইন

২। প্রথম প্রজেক্ট আপলোড

৩। ক্লিয়ার বাটন

৪। ট্যাগ বাছাই

৫। আরও প্রজেক্ট আপলোড

৬। ব্যক্তিগত ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত তথ্য 

 

১। ইমেইল অথবা ফেসবুক দিয়ে লগইনঃ

 

Behance অ্যাকাউন্ট খোলার কাজটি খুব সহজ। আপনি আপনার ইমেইল অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমনঃ Facebook, Google+ অথবা LinkedIn এর সাহায্যে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে অ্যাকাউন্ট খুললে আপনি এক ঢিলে দুই পাখি মারতে পারবেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রজেক্টগুলো যদি আগে থেকেই আপলোড করা থাকে তবে তা খুব দ্রুততার সাথে অ্যাকাউন্টে যুক্ত হবে।

লগইন করার পর আপনার কাছ থেকে কিছু সাধারণ তথ্য যেমনঃ নাম, ইমেইল, পাসওয়ার্ড, দেশ, জন্মতারিখ প্রভৃতি তথ্য চাওয়া হবে।

behance

behance

২। প্রথম প্রজেক্ট আপলোডঃ

অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পর আপনি আপনার প্রথম প্রজেক্ট আপলোড করতে পারবেন। “Upload my First Project” বাটনে ক্লিক করার পর সেখানে নির্দেশিত ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে। যেকোনো ছবি আপলোড করার সময় সেখানে যেকোনো টেক্সট বা লিঙ্ক করার অপশন থাকবে। এছাড়া কালার, টাইপফেস, অন্যান্য সকল টেক্সট এডিট করার অপশন থাকবে। এভাবে আপনি নিজের মতো করে প্রোফাইলটি সাজাতে পারবেন।

behance

৩। ক্লিয়ার বাটনঃ

সাইটের বাম দিকের “Add Media” নামের একটি প্যানেলে “Add text” এবং “Upload Files” প্রভৃতি অপশন প্রদর্শন করবে। কন্টেন্ট আপলোড করার পর এবং সেই কন্টেন্টের বিস্তারিত বিবরণী দেয়ার পর আপনি সেই পেইজের ডিজাইন পরিবর্তন করতে পারবেন। “Add Media” প্যানেলের নিচে “Customize Design” প্যানেল থেকে এই ডিজাইনগুলো পরিবর্তন করা যাবে। এছাড়াও আপনি এখানে Vimeo, YouTube, Blip.tv এবং অন্যান্য সার্ভিসগুলো থেকে বাম পাশ থেকে “Embed Media” অপশনটি পছন্দ করে ভিডিও আপলোড করা যাবে।

behance

৪। ট্যাগ বাছাইঃ

প্রথম প্রজেক্ট আপলোড করার পর সেভ বাটন ক্লিক করে নিতে হবে। এরপর আপনাকে প্রজেক্টের জন্য একটি কাভার পেজ আপলোড করতে বলা হবে। এরপর সেটিংস অপশন থেকে প্রজেক্টের জন্য “Project Tags” সংযুক্ত করতে হবে। এই সেটিংসটি করা থাকলে আপনার কাজ ক্যাটাগরাইজ করতে সুবিধা হবে। দক্ষ ডিজাইনার কিংবা প্রফেশনালরা Behance এ ট্যাগ ব্যবহার করে থাকেন। পরবর্তীতে এই ট্যাগ ধরে কাজ খুঁজে পেতে বা যেকোনো একটি ক্যাটাগরির কাজগুলোকে একসাথে পেতে সুবিধা হয়।

behance

৫। আরও প্রজেক্ট আপলোডঃ

আপনি চাইলে আপনার করা আরও অনেক প্রজেক্ট পোর্টফোলিওতে অ্যাড করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে পূর্বে লিখিত ধাপগুলোই অনুসরণ করতে হবে। তার মানে এই না যে, আপনার করা যেকোনো কাজই এখানে আপলোড করতে হবে। সবসময়ই চেষ্টা করবেন যে কাজগুলো প্রফেশনাল বলে মনে হচ্ছে সেগুলো আপলোড করতে। কারণ, সম্ভাব্য নিয়োগকর্তারা কখনোই আপনার প্রোফাইলের সবকিছু ঘেঁটে দেখবে না। একারণে, এখানে সবচেয়ে প্রফেশনাল মানের কাজগুলোকেই স্থান দিতে হবে। তবে তারা আপনার কাজ দেখে পছন্দ করলে আপনার অন্যান্য কাজও চেক করে দেখতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি অন্য কোনো ওয়েবসাইট/ব্লগ/টুইটার পেইজের লিঙ্ক দিতে পারেন।

behance

৬। ব্যক্তিগত ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত তথ্যঃ 

প্রজেক্ট আপলোড করার পর আপনি “Complete your Profile” বাটনে ক্লিক করে আপনার অন্যান্য সকল তথ্য দিতে পারেন। এতে করে ক্লায়েন্টরা খুব সহজেই আপনাকে খুঁজে পেতে সক্ষম হবে। এছাড়াও পোর্টফোলিও অপশনটির নিচে “Work Experience” ফিল্ডে আপনি আপনার পূর্বের বা বর্তমানের সকল কাজের অভিজ্ঞতার তথ্য দিতে পারেন। এছাড়া ডিজাইন সম্পর্কিত কোনো প্রাপ্তি বা এই সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্যাবলি দিতে পারেন। এতে করে ক্লায়েন্টরা আপনার দক্ষতা দেখার পাশাপাশি কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ভালো ধারণা পেতে সক্ষম হবে।

behance

আর এই সকল ধাপ শেষে আপনার Behance এ পোর্টফোলিওটি তৈরির কাজটি  মোটামুটি সম্পন্ন! এখন আপনি আপনার করা ভালো কাজগুলো আপলোড করার মাধ্যমে বাইরের বা লোকাল ক্লায়েন্টের সাথে একটা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে সক্ষম হবেন। আপনি না, কাজই আপনাকে খুঁজে নিবে!

সেরা সেরা কিছু পোর্টফোলিও লিঙ্কঃ

https://www.behance.net/Ramotion

https://www.behance.net/daryamalikova

https://www.behance.net/lukaszdrozdz

https://www.behance.net/patrickseymour

https://www.behance.net/estudioicone

 

তথ্যসূত্রঃ

https://www.creativebloq.com

ফেইসবুকের সাহায্যে মন্তব্য দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*