ফাইবার থেকে অধিক আয় করার অসাধরণ ৭টি টিপ্‌স!

আপনি ইতিমধ্যে ফ্রিল্যান্সিং করছেন? বা শুরু করার চিন্তা করছেন তাহলে ফাইবারেই হোক আপনার সফল ক্যারিয়ার। ফাইবার বর্তমানে অত্যধিক জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেখানে ফ্রিল্যান্সাররা (ফাইভারে সেলার) তাদের কার্যক্ষমতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে ক্লায়েন্টদের জন্য বিভিন্ন সার্ভিসের প্যাকেজ তৈরি করে তা বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখেন। ফাইভারে এরকরম এক বা একাধিক প্যাকেজ মিলে তৈরি সার্ভিসগুলো গিগ নামে পরিচিত যার মূল্য ৫ ডলার থেকে শুরু করে ৫০০ ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফাইভার প্রতি ৫ ডলার মূল্যের গিগ বিক্রিতে সেলারকে ১ ডলার চার্জ করে; অর্থাৎ যেকোনো পরিমান সেলের ২০% চার্জ করে ফলে ৮০% রেভিনিউ সেলারের অ্যাকাউন্টে জমা হয়। ফাইভারে বর্তমানে বিভিন্ন সার্ভিসের উপর ৩০ লক্ষাধিক গিগ রয়েছে। আপনার ফুলটাইম আয়ের উৎস হতে পারে ফাইবার। আজ ফাইবার থেকে সহজে অধিক আয় করার ৭টি টিপ্‌স  নিয়ে আলোচনা করব।

শুধু সেই গিগ গুলোই প্রদর্শন করুর যেগুলো খুব তারাতারি সম্পন্ন করা সম্ভব

01

আপনি যদি ফাইভার থেকে অধিক আয় করতে চান, শুধুমাত্র সেই গিগ গুলো প্রদর্শন করুন যা অপেক্ষাকৃত অল্প সময় মধ্যে সম্পন্ন করতে পারবেন। কিছু গিগ এর উদাহরণ এমন হতে পারেঃ
• I will professionally capture audio or video from YouTube for $5
• I will leave 5 positive comments on your blog or videos for $5
• I will create a custom internet meme for you for $5
যদি প্রতিটি আপনি ৫-১০ মিনিট বা তার কম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে পারেন, তাহলে এটা পুরোপুরি যুক্তিসঙ্গত যে আপনি এক ঘন্টার মধ্যে এই কাজ আরও এক ডজন সম্পন্ন করতে পারবেন ফলে আপনার সর্বনিন্ম আয় হবে ৪৮ ডলার। তাই আপনাকে অবশ্যই এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে ২ ঘন্টা সময় যেন ব্যায় না হয় ৪ ডলার আয় করার জন্য।

আপনার গিগটিকে আকর্ষণীয় করে তুলুন

freelance-work

ফাইবারে একই গিগ এর প্রতিদ্বন্দী অনেক।  প্রতিদ্বন্দিতার মাঝেই আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে, তবে দরকার যথাযথ কৌষলের। গীগটিকে সাজিয়ে নিন সাবলীল, সংগতিপূর্ণ, আর কার্যকরী তিথ্য দিয়ে। আপনার গিগটিকে করতে হবে সবার চেয়ে আকর্ষণীয়। অনুসরন করতে পারেন নিচের পদ্ধতিগুলোঃ

১. টাইটেল কে যত সম্ভব আকর্ষণীয় করুন

বায়ার যেহেতু টাইটেল এর উপর দৃষ্টি রাখেন, তাই টাইটেল এ যথাসম্ভব গিগ এর কিওয়ার্ডগুলো লেখার চেষ্ট করুন। তাহলে বায়ার সহজে গিগটি বুঝতে পারবেন।

২. গিগ এর অফারের সাথে সংশ্লিষ্ট ছবি/ভিডিও

আপনার গিগ সংশ্লিষ্ট একাধিক ছবি/ভিডিও আপনার অফারটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। একটি কার্যকরী ছবি/ভিডিও অনেক বর্ণনারে  চেয়েও ভাল। সুতরাং অফারের সাথে যে ছবি/ভিডিও সংযুক্ত করবেন সেটি গুরুত্বের সাথে নির্বাচন করতে হবে।

৩. গিগ এর বিষয়বস্তুর যথাযথ বর্ণনা

আপনি যে গিগটি অফার করবেন এর সুন্দর/সাবলীল বর্ণনা দেওয়ার চেষ্টা করুন তাহলে বায়ার আপনার সার্ভিসটি কেনার ব্যপারে বেশি প্রাধান্য দিবেন। আপনার গিগের বর্ণনা তারাই পড়বে যারা আপনার টাইটেল এবং ছবি দেখে আগ্রহী হয়ে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করবে। সুতরাং বিবরণটি এমনভাবে লিখুন যেন  বায়ার আপনার গিগ কেনার জন্য ইমপ্রেস হন।

একই গিগ একাধিক স্টাইলে পুনরাবৃত্তি করুন

তারাতারি সম্পূর্ণ করা যায়, এরকম গিগ যদি ভাল বিক্রয় হচ্ছে দেখতে পান, তাহলে এ ধরনের আরও একাধিক গিগ একটু ভিন্ন আংঙ্গিকে তৈরী করতে পারেন। ফলে আপার ক্রিয়েটিভিটি  দেখে ক্লায়েন্ট ইমপ্রেস হবে। উদাহরণস্বরূপঃ
kymmypops

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে,  অনেক ক্রেতা একই রকম গিগ বিভিন্ন কি-ওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করে, তাই কি-ওয়ার্ড পরিবর্তন করে একই গিগের একাধিকবার পুনরাবৃ্ত্তি হতে পারে অধিক বিক্রয়ের অন্যতম মাধ্যম।

পুনরায় বিক্রয়ের জন্য ক্রেতাকে বিশেষ অফার

ধরুন, আপনি একটি গিগ অফার করলেন, ৫ ডলারে ৫টি  ফেইসবুক পোষ্ট লিখে দিবেন, যখন আপনি কাজটি সম্পন্ন করলেন, তখন ক্রেতাকে অফার করতে পারেন ৬টি পোষ্ট লিখে দিবেন ৫ ডলারে। এই আইডিয়া অন্য গিগ এর ক্ষেত্রেও অবলম্বন করতে পারেন।hand

১০০ ওয়ার্ডের একটি অনুচ্ছেদ বিক্রয় করলেন ৫ ডলারে, পরবর্তী অর্ডারের জন্য ক্রেতাকে ৫ ডলারে ১২০ ডলার অফার করতে পারেন। একইভাবে ৫টি ব্লগপোষ্ট কমেন্ট এর যায়গায় ৬টি করতে পারেন, ফলে ক্রেতা মুগ্ধ হয়ে বার বার আপনার গিগই ক্রয় করবে। এরকম বিশেষ অফারে আপনার আয়ের পরিধি বাড়বে, শুধু তাই নয়, সার্চ রেজাল্ট এ আপনার গিগ এর প্রাধান্য পাবে সবার আগে। এই  কৌশল ব্যাবহার করে একটি সাধারণ গিগ অধিক সংখ্যক বার বিক্রয় করতে পারেন।

দ্রুত রেসপন্স ও কাস্টম অফার

send-a-custom-offer

উল্লেখ্য, ফাইবার গিগ এর সার্চ ফলাফলের র‌্যাংকিং করতে একটি জটিল পদ্ধতি ব্যবহার করে। এ পদ্ধতিতে বায়ারকে কে কত তারাতারি রেসপন্স করে এর উপর ভিত্তি করে র‌্যাংক দেয়া হয়। তাই বায়ারকে যত দ্রুত রেসপন্স করার চেষ্টা করুন। দ্রুত রেসপন্স করার পর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় “কাস্টম অফার”। বায়ারকে কাস্টম অফার করার চেষ্টা করুন। আপনি যে গিগ টি ইতিমধ্যে বিক্রয় করেছেন, এ ধরনের আরেকটি গিগ এর অফার করতে পারেন বায়ারকে। উল্লেখ্য কাষ্টম অফার এ গিগ এর বর্ণনা, কত সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করতে পারবেন এবং বায়ার এর জন্য কত ডলার প্রদান করবে এসব তথ্য উল্লেখ করতে হবে।

আপনার গিগ শেয়ার করুন যতটা সম্ভব

share-on-twitter

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনার গিগ শেয়ার করতে পারেন। হয়ত আপনার ফলোয়ারদের মধ্যে কারো এ ধরনের সার্ভিস প্রয়োজন হতে পারে। আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে ফাইবার সেই গিগগুলোই সার্চ রেজাল্ট এ প্রাধান্য দেয়, যারা নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গিগ শেয়ার করে।

নেতিবাচক রিভিউ, লেট ডেলিভারি ও অর্ডার ক্যান্সেল এড়িয়ে চলুন

যদিও এটি একটি সাধারন ব্যাপার মনে হতে পারে, কিন্তু অবশ্যই আপনাকে নেতিবাচক রিভিউ, লেট ডেলিভারি ও অর্ডার ক্যান্সেল এড়িয়ে চলতে হবে। যদি তা না হয় তাহলে ফাইবার সার্চ রেজাল্ট এ আপনার গিগ এর র‌্যাংক এবং সেলার লেভেল কমিয়ে দিবে।

বায়ারের সাথে স্বচ্ছ যোগাযোগের মাধ্যমে নেগেটিভ রিভিউ কমিয়ে আনতে পারেন। কাজ সম্পন্ন করার পূর্বে বায়ারকে অবশ্যই জানার কিছু বাকি থাকলে প্রশ্ন করে নিতে পারেন। কাজ ডেলিভারি দেয়ার সময় অবশ্যই ফাইভ ষ্টার রেটিং এর উপর গুরুত্ব দিতে হবে। যদি সম্ভব হয় তাহলে গিগ এ বর্ণিত অফারের চাইতে একটু বেশি কাজ করার চেষ্টা করবেন।

গ্রাফিক ডিজাইন শিখে ফাইবারে কাজ করতে চাইলে দেখতে পারেন প্রযুক্তি টিম গ্রাফিক ডিজাইন টিউটোরিয়াল। অর্ডার করতে পারেন ডিভিডি

আজ এ পর্যন্তই, আল্লাহ হাফেজ। -সুলতান মাহমুদ।

ফেইসবুকের সাহায্যে মন্তব্য দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

6 Comments