মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট ২০১০ এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল ফিচার-০২

নতুন স্লাইড তৈরি করা ও ডিলিট করাঃ

মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট ২০১০ এ একটি নতুন প্রেজেন্টেশান তৈরি করুন। এই প্রেজেন্টেশানটিতে একটিমাত্র স্লাইড থাকবে। এই স্লাইডে দুটি টেক্সট হোল্ডার রয়েছে। টেক্সট হোল্ডারের মাঝখানে ক্লিক করে টেক্সট এডিট করুন। এবার আমরা নতুন একটি স্লাইড তৈরি করব। মনে রাখবেন একটি স্লাইডের পরিমাপ 35 মিলিমিটার। এই 35 মিলিমিটার সাইজের স্লাইডেই আমরা টেক্সট, ইমেজ, ক্লিপ-আর্ট, অডিও, ভিডিও যুক্ত করে বিভিন্ন ধরনের এনিমেশান ও ইফেক্ট দিয়ে দৃষ্টিনন্দন প্রেজেন্টেশান তৈরি করে থাকি। নতুন স্লাইড তৈরির জন্য নিচের চিত্রটি দেখুন-

এই চিত্রটির স্লাইড অংশের New slide pop-up menu টিতে ক্লিক করুন। দেখবেন বিভিন্ন লে-আইট সম্বলিত একটি লিস্ট ওপেন হবে। এই লিস্ট থেকে আপনার পছন্দের লে-আউটে ক্লিক করে স্লাইডটি তৈরি করুন। আমরা New slide pop-up menu এর উপরের New slide button টিতে ক্লিক করলে সরাসরি একটি স্লাইড তৈরি হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে আপনাকে পাশের লে-আউট অপশান থেকে লে-আউট বাছাই করতে হবে। এভাবে আমরা যতগুলো ইচ্ছা স্লাইড তৈরি করতে পারি।

অনেকগুলো স্লাইড থেকে কোন একটি স্লাইডকে যদি ডিলিট করতে হয় তাহলে যে স্লাইডটি ডিলিট করবেন সেটি সিলেক্ট করে কী-বোর্ড থেকে ডিলিট চাপুন। এছাড়া স্লাইড প্যানেলে গিয়ে স্লাইড সিলেক্ট করে মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করলে যে ম্যানুটি ওপেন হয় সেখানে ডিলিট স্লাইডে ক্লিক করেও আমরা যে কোন স্লাইকে ডিলিট করতে পারি।

স্লাইড রি-এরেঞ্জ/বিন্যস্ত করাঃ

আমরা প্রেজেন্টেশানে একাধিক স্লাইড যুক্ত করলাম। কনটেন্ট/বিষয়বস্তু ঠিক করলাম। এরপরও কোন কোন সময় বিশেষ কোন স্লাইডকে উপর/নিচ করার প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে যে স্লাইডটিকে স্থানান্তর করবেন স্লাইড প্যানেল এ সেটিকে মাউস দিয়ে ড্র্যাগ করে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে ছাড়ুন। এক্ষেত্রে লক্ষ্য করবেন যেখানে স্লাইডটিকে প্রতিস্থাপন করবেন স্লাইডটিকে সেখানে নিলে পূর্বের দুটি স্লাইডের মাঝখানে একটি কালো দাগ দেখবেন। কালো দাগটি নিশ্চিত করে স্লাইডটি প্লেস করবেন। আমরা ভিউ মেন্যু তে গিয়ে স্লাইড সর্টার ভিউ থেকেও স্লাইড বিন্যস্ত করতে পারি। নিচের চিত্রটি দেখুন-

চিত্রের চিহ্নিত দুটি স্থানের যে কোন একটিতে গিয়ে স্লাইড সর্টার ভিউতে স্লাইডগুলো দেখুন। এখান থেকে স্লাইডকে ড্র্যাগ করেও আপনি স্থানান্তর অর্থাৎ ক্রমবিন্যাস ঠিক করতে পারেন।

পাওয়ারপয়েন্টের স্লাইড ও কন্টেন্ট এডিট করুন আউটলাইন প্যানেল থেকেঃ

আমাদের প্রেজেন্টেশানে ধরা যাক 15 টি স্লাইড রয়েছে। এখন যে কোন স্লাইডের টেক্সট এডিট করতে হলে আমাদেরকে সেই স্লাইডে গিয়ে টেকস্ট হোল্ডারে ক্লিক করে তা করতে হবে। কিন্তু আমরা খুব সহজেই সেটা করতে পারি আউটলাইন প্যানেল থেকে হুবহু মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এর মত করে। নিচের চিত্রটি দেখুন-

এই চিত্রটির যেকোন লাইনে আপনি মাউসের পয়েন্টার সেট করুন। এর Microsoft ওয়ার্ডের মত করেই যে কোন টেক্সটকে এডিট করুন।

এখানে থাম্বনিলগুলো হলো এক একটি স্লাইড। Bold লেখাগুলো হলো প্রতিটি স্লাইডের টাইটেল। Regular লেখাগুলো হলো স্লাইডের টেক্সট কনটেন্ট।

সাধারনত Enter চাপলে একটি নতুন প্যারাগ্রাফ শুরু হয়। কিন্তু এখানে যে কোন লাইনের শেষে Enter চাপলে একটি নতুন স্লাইড যুক্ত হবে।স্লাইড যুক্ত হবার পর প্রথমেই স্লাইডের টাইটেল লিখুন। এরপর Enter চাপুন। নিয়ম অনুসারে আরেকটি স্লাইড তৈরি হবে। আমরা Enter চাপার পর কোন কিছু না লিখে কী-বোর্ড থেকে Tab প্রেস করব। দেখুন একটি Indent এসেছে। এবার টেক্সট লিখি। Enter চেপে আবার লিখি আবার Enter চেপে লিখি। এভাবে স্লাইডের অধীনে আপনি নতুন কনটেন্ট যুক্ত করতে পারেন।

কোন ইনডেন্টকে স্লাইডে পরিনত করতে হলে Shift+Tab Press করুন। দেখুন Indent টি নতুন স্লাইডে পরিনত হয়েছে।

কোন Indent এর অধীনে সাব-ইনডেন্ট যুক্ত করতে এন্টার প্রেস করার পর Tab চাপুন। দেখুন Sub-Indent যুক্ত হয়েছে। এন্টার চাপুন নতুন সাব-ইনডেন্ট যুক্ত করতে।

আউটলাইন প্যানেল থেকে স্লাইড এডির্টিং করার প্রক্রিয়াটি আয়ত্ব করে নিতে পারলে খুব সহজেই অল্প সময়ে আমরা স্লাইডের কনটেন্ট এডিট করতে পারব এবং নতুন স্লাইডও তৈরি করতে পারব খুব সহজেই। আশা করি এই বিষয়টি আয়ত্বে নিতে আমরা সবাই সক্ষম হব।

 

প্রাথমিক কাজ শেখার পর বিশেষ কিছু টিপস ও ট্রিকস এবং এডভান্সড পর্যায়ের যেসকল কাজগুলো করা হয় সেগুলো আলোচনায় আনব। এডভান্সড আলোচনায় থাকবে প্রেজেন্টেশানে কিভাবে অডিও ও ভিডিও যুক্ত করে করে এটিকে মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশানে পরিনত করব, অডিও এবং ভিডিও ইন পাওয়ারপয়েন্ট, বিজনেস প্রেজেন্টেশান এর বিস্তারিত আলোচনা ইত্যাদি। আশা করি সকলেই সাথে থাকবেন, ধৈর্য সহকারে পাওয়ারপয়েন্টটা আয়ত্বে আনবেন। আর বিশেষ একটি বিষয় টিউনগুলো মানসম্মত হচ্ছে কিনা, আপনাদের খানিকটা উপকারে আসছে কিনা মতামত দেবেন।  েএতে করে একদিকে টিউনের মানটা যাচাই হয়ে যায় অন্যদিকে আপনাদের একটি মতামতের কারনে লেখার আগ্রহ বেড়ে যায় কয়েকগুন।

যাক আর কথা না বলে শুরু করি। আজ আলোচনা করব পাওয়ারপয়েন্ট ২০১০ এ স্লাইডসমুহকে কিভাবে সেকশানে বিন্যস্ত করবেন? একটি স্লাইডে কিভাবে ফটো/ইমেজ/ক্লিপ আর্ট যুক্ত করবেন এবং প্রেজেন্টেশানকে সেভ করে কিভাবে রান করবেন ইত্যাদি।

স্লাইডগুলোকে সেকশানে বিন্যস্তকরনঃ

ধরি, আমাদের প্রেজেন্টেশানে যদি ২০ টি স্লাইড আছে।যে স্লাইডের পূর্বে আমরা সেকশান তৈরি করব সে স্লাইডে মাউস নেই। এরপর এই স্লাইড ও তার উপরের স্লাইডটির মাঝখানে মাউস নিলে দেখুন একটি কালো দাগ নাচতে থাকে। চিত্রটি দেখুন-

ঠিক এই দাগ বরাবর ক্লিক করুন। এরপর Home tab এ গিয়ে New slide pop-up menu  তে ক্লিক করলে যে তালিকা দৃশ্যমান হবে সেখান থেকে Section header স্লাইডটিতে ক্লিখ করুন। এই স্লাইডে সেকশান কনটেন্ট লিখুন। এইভাবে আপনার যে কয়টি সেকশান প্রয়োজন সবকটি তৈরি করে নিন। নিচের চিত্র দুটি দেখুন-

২য় চিত্র-

আমাদের প্রয়োজনীয় সবগুলো সেকশান হয়ে গেল। এবার সেকশানগুলোর নাম পরিবর্তন করে নিন। এজন্য যা করতে হবে তাহলো সেকশান তৈরি করার পর প্রতিটি সেকশানেরই ডিফল্ট একটি নাম সেট হয়ে গিয়েছে। আপনি স্লাইড প্যানেলে লক্ষ্য করুন। দেখুন-

চিত্রে 1 চিহ্নিত স্থানে যে হোয়াইট এরো রয়েছে সেটিতে ক্লিক করলে এই সেকশান এর অধীনে যে স্লাইডগ্রলো রয়েছে সেগুলো এক্সপান্ড হবে। পুনরায় ক্লিক করলে স্লাইডগুলো এই সেকশানের অধীনে কলাপ্স হয়ে যাবে।

চিত্রে 2 চিহ্নিত স্থানে মাউস নিয়ে রাইট বাটন ক্লিক করুন। এরপর রিনেম এ ক্লিক করুন। এই সেকশানটির একটি নাম লিখুন। রিনেম এ ক্লিক করুন। ব্যাস হয়ে গেল। ভিউ ট্যাবে গিয়ে স্লাইড সর্টার ভিউতে দেখুন। এভাবে প্রতিটি স্লাইডকে আপনি সেকশান আকারে বিন্যস্ত করে রাখলে প্রেজেন্টেশানটি অনেক সুন্দর হয় যেখান থেকে আমরা সহজেই আমাদের দরকারী স্লাইডটি খুব অল্প সময়েই খুজে নিতে পারি।

পাওয়ারপয়েন্ট ২০১০ স্লাইডে ইমেজ/ক্লিপআর্ট যুক্ত করাঃ

সাধারনত দুটি পদ্ধতিতে পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইডে ইমেজ যুক্ত করতে পারি। প্রথম পদ্ধতি হলো ইমেজ হোল্ডার যুক্ত স্লাইড লে-আউট ব্যবহার করে, দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো সরাসরি Insert tab এর মাধ্যমে।

প্রথম পদ্ধতিঃ আমরা যে স্লাইডটিতে ইমেজ যুক্ত করব সেটিতে যদি ইমেজ হোল্ডার না থাকে তবে হোম ট্যাব এ গিয়ে লে-আউট অপশান থেকে আমরা ইমেজ হোল্ডার যুক্ত লে-আউট সিলেক্ট করব। চিত্রটি দেখুন-

চিত্রে নির্দেশিত পন্থায় 1 চিহ্নিত লে-আউটটি সিলেক্ট করুন। এইরকম আরও লে-আউট রয়েছে। এরপর 2 চিহ্নিত স্থানে দেখুন 6টি কন্টেন্ট আছে যেখানে ২য় সারির প্রথমটি হলো ইমেজ যুক্ত করার। এটিতে ক্লিক করুন এবং আপনার ইমেজ যেখানে আছে সে লোকেশান এ গিয়ে ইমেজটি ইনসার্ট করুন। এর ইমেজটিকে আপনি আপনার প্রয়োজনমত রিসাইজ করুন অথবা ইমেজ ফরমেট ট্যাব এ গিয়ে পাওয়ারপয়েন্ট ২০১০ এর অত্যন্ত সমৃদ্ধ ফরমেটিং অপশনগুলো প্রয়োগ করে ইমেজটিকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলুন।

২য় পদ্ধতিঃ Insert tab এ ক্লিক করুন। এরপর Picture এ ক্লিক করুন। ইমেজটি কোথায় দেখিয়ে দেন। ইমেজটি সিলেক্ট করে স্লাইডে ইনসার্ট করুন। এরপর ফরমেট করুন আপনার রুচিবোধকে প্রাধান্য দিয়ে।

স্লাইডে ক্লিপ আর্ট যুক্ত করাঃ

উপরের চিত্রে যে 6টি কন্টেন্ট আছে তারমধ্যে ২য় সারির ২য় কনটেন্টটি হলো ক্লিপ আর্ট। ইমেজ যেভাবে যুক্ত করার নিয়ম ক্লিপ আর্টও অনেকটা সেভাবেই করা হয়। ব্যতিক্রম হলো ক্লিপ আর্ট ইনসার্ট করার কমান্ড প্রয়োগ করলে পাওয়ারপয়েন্ট ২০১০ উইন্ডোর ডানপাশে ক্লিপ আর্ট সার্চ বক্স আসে। এই সার্চ বক্সে লিখে দিন যে ক্লিপ আর্টটি আপনার লাগবে। এরপর Go তে ক্লিক করে আপনার দরকারী ক্লিপ আর্টটি স্লাইডে যুক্ত করুন। ফরমেট করবেন আগের ইমেজের মতই। চিত্রটি দেখুন-

এভাবে প্রয়োজনীয় কনটেন্ট যুক্ত করার পর যদি মনে করুন প্রেজেন্টেশানটি একবার রান করে দেখবেন কেমন হয়েছে তাহলে প্রেজেন্টেশানটি সেভ করে কী-বোর্ড থেকে F5 চাপুন। আপনার প্রেজেন্টেশানটি রান হবে। এর পর একটি একটি স্লাইড আপনার সামনে দৃশ্যমান হবে। অটোমেটিক টাইম যদি সেট করা না থাকে অথবা যদি ক্লিক এর মাধ্যমে স্লাইড পরিবর্তন করার অপশনটি সেট করা থাকে তাহলে একটি স্লাইড দেখার পর মাউস দিয়ে ক্লিক করে আরেকটি স্লাইড দেখুন অথবা কী-বোর্ড থেকে এরো কী চাপুন। প্রেজেন্টেশানটি দেখা শেষ হলে Esc চাপুন।

 

স্লাইড মাস্টারঃ

আমাদের প্রেজেন্টেশানে যখন অনেকগুলো স্লাইড থাকে তখন স্লাইডের কন্টেন্ট যেমন-টেক্সট, অবজেক্ট, গ্রাফিক্স (ছবি, ক্লিপ-আর্ট, ব্যাকগ্রাউন্ড ইমেজ) এডিট করতে গেলে একটি একটি স্লাইড ধরে করা অনেকটাই কষ্টকর হয়। সেক্ষেত্রে যদি সবগুলো স্লাইডেই আমরা একসাথে ফরমেট করার ইচ্ছা পোষন করি তাহলে আমাদের স্লাইড মাস্টারের সাহায়্যেই তা করতে হয়। আসুন নিচের চিত্রটি দেখি-

প্রেজেন্টেশানটি ওপেন করে View menu তে গিয়ে চিত্রে চিহ্নিত স্থানে দেখুন Slide master লেখাটি রয়েছে। ক্লিক করুন। এরপর ইন্টারফেসে নরমালি স্লাইডগুলোকে যেভাবে দেখা যায় সেভাবে আর আপনি দেখতে পাবেননা। আপনি দেখতে পাবেন স্লাইড মাস্টার লে-আউট এর অপশানগুলো। আমাদেরকে কাজ করতে হবে স্লাইড মাস্টার লে-আউট অপশানের সবচেয়ে উপরে যে স্লাইডটি রয়েছে সেটিতে। ঐ স্লাইডটিতে ক্লিক করুন। এরপর যেকোন টেক্সট হোল্ডার থেকে টেক্সটগুলো সিলেক্ট করে আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী ফরমেট করুন যেমন- ফন্ট সাইজ, স্টাইল, ফন্টের কালার পরিবর্তন এমনকি ফন্ট পরিবর্তন ইত্যাদি। এছাড়া যে টেক্সট বক্সে টেক্সগুলো থাকে সেটি সিলেক্ট করে আপনি বক্সটির বিভিন্ন ধরনের ফরমেট করতে পারেন। বলা দরকার যখন আপনি কোন টেক্সট বক্স, কোন শেপ, কোন ইমেজকে সিলেক্ট করবেন ঠিক তখনই এগুলোকে বিভিন্ন ফরমেট করতে পাওয়ারপয়েন্ট ২০১০ রিবনে অতিরিক্ত ফরমেট ট্যাব দেখতে পাবেন। সেখান থেকে আপনি প্রয়োজনীয় ফরমেট করুন। নিচের দুটি চিত্র একটু লক্ষ্য করুন-

১ম চিত্র-

২য় চিত্র-

উপরের প্রথম চিত্র হলো আপনি যখন কোন বক্স, শেপ, ইমেজকে সিলেক্ট করবেন তখন আপনার সিলেক্ট করা অবজেক্ট এর ড্রয়িং পরিবর্তন করার সকল অপশন  এখানে দেয়া আছে। Insert shape, Shape style, Wordart style, Arrange, Size কোনটির সাহায্যে কি কাজ করা হয় আশা করি বিস্তারিত বলতে হবেনা। তবুও কারও সমস্যা হলে মন্তব্য করে জানার সবিনয় অনুরোধ করছি।

দ্বিতীয় চিত্রটি হলো Image edit টুল। আপনার প্রেজেন্টেশানে কোন ইমেজকে সিলেক্ট করলে রিবনে আপনি েএটি পাবেন। একটু লক্ষ্য করে দেখে নিন। কোন অপশানটি নেই এখানে। শুধুমাত্র দেখুন আর প্রয়োগ করুন।কোন কিছুতে সমস্যা হলে আবারও বলছি সাহায্য নিবেন।

এভাবে টেক্সট, শেপ, ইমেজসহ সম্পুর্ন এডিট করার পর আপনি রিবন থেকে স্লাইড মাস্টার ট্যাবে যান। এরপর Close master view তে ক্লিক করে প্রেজেন্টেশানটি সেভ করুন। নিচের চিত্রটি দেখুন-

এখানে দেখুন আপনি যখন মাস্টার স্লাইড এর মাধ্যমে সম্পুর্ন প্রেজেন্টেশানটিকে ফরমেট শুরু করতে যাবেন তখন Slide master নামে আরেকটি ট্যাব রিবনে দেখতে পাবেন। আপনি প্রয়োজনীয় সকল ট্যাব দিয়ে ফরমেটিং শেষ করার পর পুনরায় Slide master ট্যাবে এসে ডানপাশে দেখুন Close master view আছে। এটিতে ক্লিক করে প্রেজেন্টেশানটিকে সেভ করুন।

কতটুকু লিখতে পেরেছি মন্তব্য করে জানাবেন।

স্লাইডগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন করাঃ

একটি বিষয় বলি যদি প্রত্যেকটি স্লাইডের ব্যাকগ্রাউন্ড আলাদা আলাদা পরিবর্তন করেন সেটা করতে পারেন। আর যদি একই ব্যাকগ্রাউন্ড সবগুলো স্লাইডেই এপ্লাই করবেন তাহলে উপরের আলোচনা মোতাবেক স্লাইড মাস্টার ট্যাব এ গিয়ে স্লাইড মাস্টার লে-আউটগুলোর মধ্যে সবার উপরে যেটি সেটি সিলেক্ট করুন। এরপর নিচের চিত্রটি দেখুন-

চিত্রে চিহ্নিত স্থান Background styles এ ক্লিক করুন। নিচের চিত্রটি পাবেন-

চিত্রটিতে যে কয়টি কাস্টম ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে এগুলো যদি পছন্দ না হয় তবে নিচে দেখুন Format background লেখা। এখানে ক্লিক করুন। এবার নিচের ছবিটি দেখুন-

প্রথমেই Fill থেকে Picture or texture fill েএ ক্লিক করে প্রয়োজনীয় পিকচারটি/টেক্সারটি পছন্দ করুন অথবা আপনার মেশিন থেকে কোন ছবি নিলে আপনি অপশানমত গিয়ে ছবিটি স্লাইডে ইনসার্ট করুন। যদি ছবি / টেক্সারটি আপনার স্লাইডটিকে এমন করে দেয় যে আপনি লেখাগুলো পড়তে পারছেননা বা দেখতে চোখ ধাঁধানো হয়নি সেক্ষেত্রে উপরের চিত্রের অন্যান্য অপশানগুলো যথা- Picture correction, Picture color, Artistic effect ব্যবহার করে আপনি দক্ষতার সাথেই আপনার স্লাইডের ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি করে নিতে পারেন।

স্লাইডে গ্রাফিক্স যুক্ত করাঃ

ফরমেট করা হলো, ব্যাকগ্রাউন্ড এ পছন্দ অনুযায়ী ছবি/টেক্সার দেওয়া হলো। এরপরও কেমন কেমন জানি লাগে। যদি আরেকটু ‍সুন্দর হতো। চলুন কিভাবে তা করতে পারি। স্লাইড মাস্টার ট্যাব এর প্রথম স্লাইডটি সিলেক্ট করা অবস্থায় Insert tab এ গিয়ে Picture select করে যে কোন একটি সুন্দর ছবি/টেক্সার স্লাইড এ যুক্ত করি। এরপর ইমেজটিকে সিলেক্ট করি এবং নিচের চিত্রটি একটু দেখি-

চিত্রটি সিলেক্ট করলেই ফরমেট ট্যাব রিবনে হাজির। সেখান থেকে ডানপাশে দেখুন Crop এর অধীনে Crop to shape অপশনটি রয়েছে। এখানে গিয়ে চমৎকার একটি শেপ সিলেক্ট করে ক্লিক করুন। এরপর শেপটির চারপাশে যে হেন্ডল পাবেন এগুলো ব্যবহার করে ইমেজটিকে ছোট/বড় করতে পারেন এবং স্লাইডএর সে স্থানে দিতে চান সেখানে সেট করতে পারেন। ফরমেট ট্যাব এর অন্যান্য যে ফরমেটিং অপশনগুলো আছে সেগুলো ব্যবহার করে ইমেজটিকে করে ফেলতে পারেন ওয়াও!! কি সুন্দর। সবশেষে সেভ করুন। আজ এখানেই থাক।

আবার লিখব। আপনারা সবাই দোয়া করবেন। একটু চাপে আছি। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন চাপ থেকে আমাকে মুক্ত করে।

আবারও বলছি। কেমন হচ্ছে মতামত দিবেন।

মানসম্মত করার কোন বিষয় থাকলে জানাবেন। সবাইকে ধন্যবাদ।

Category:

ব্লগ

ফেইসবুকের সাহায্যে মন্তব্য দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

1 Comment